সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ব্লগার ওয়েবসাইটে দ্রুত গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এবং আর্টিকেল লেখার সঠিক নিয়ম

ব্লগিং জগতে বর্তমানে গুগল এডসেন্স হলো উপার্জনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। অনেকেই শখ করে বা পেশা হিসেবে ব্লগিং শুরু করেন, কিন্তু দিনের পর দিন কষ্ট করার পরেও যখন এডসেন্স এপ্রুভাল বা মনিটাইজেশন পান না, তখন হতাশা কাজ করে। বিশেষ করে যারা ব্লগার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য সঠিক নিয়মে আর্টিকেল লেখা অত্যন্ত জরুরি। গুগল এডসেন্স এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট এবং কঠোর। তারা শুধুমাত্র সেই সব ওয়েবসাইটকে এপ্রুভাল দেয়, যাদের কন্টেন্ট বা আর্টিকেল মানসম্মত এবং ব্যবহারকারীদের জন্য উপকারী। আজকের এই আর্টিকেলে আমি একজন সিনিয়র কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে আপনাকে ধাপে ধাপে শেখাবো, কীভাবে আর্টিকেল লিখলে আপনি ব্লগার ওয়েবসাইটে খুব দ্রুত গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন পাবেন।

ব্লগার ওয়েবসাইটে দ্রুত গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এবং আর্টিকেল লেখার সঠিক নিয়ম


আর্টিকেলের বিষয়বস্তু নির্বাচন বা নিচ সিলেকশন

এডসেন্স পাওয়ার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা নিচ নিয়ে কাজ করা। নতুন ব্লগাররা প্রায়ই এই ভুলটি করেন যে, তারা একই ওয়েবসাইটে টেকনোলজি, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা এবং রান্নার টিপস সব একসাথে লিখে ফেলেন। গুগল এই ধরনের ওয়েবসাইটকে খুব একটা পছন্দ করে না কারণ এতে ওয়েবসাইটের কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি থাকে না। আপনাকে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন বিষয়ে দক্ষ। যদি আপনি টেকনোলজি ভালো বোঝেন, তবে শুধুমাত্র টেকনোলজি নিয়েই লিখুন। যদি আপনি ভ্রমণের গল্প লিখতে পছন্দ করেন, তবে ট্রাভেল ব্লগ তৈরি করুন। একটি নির্দিষ্ট টপিক বা মাইক্রো-নিচ নিয়ে কাজ করলে গুগল বুঝতে পারে আপনার সাইটটি ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে অথরিটি বা বিশেষজ্ঞ, ফলে এপ্রুভাল পাওয়া সহজ হয়।

আর্টিকেলের হেডলাইন বা শিরোনাম তৈরি করা

আপনার আর্টিকেলের শিরোনাম বা টাইটেল হলো প্রথম জিনিস যা পাঠক এবং গুগল সার্চ ইঞ্জিন দেখে। শিরোনামটি অবশ্যই আকর্ষণীয় হতে হবে এবং এতে আপনার মূল কিওয়ার্ড থাকতে হবে। তবে ক্লিকবেট বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দেওয়া যাবে না। যেমন, আপনি লিখলেন কিভাবে মাসে ১ লাখ টাকা আয় করবেন, কিন্তু আর্টিকেলের ভেতরে সেই সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই এমন কাজ করলে এডসেন্স কখনোই পাবেন না। শিরোনাম হতে হবে ৬৫ অক্ষরের মধ্যে এবং এটি যেন পুরো আর্টিকেলের মূলভাব প্রকাশ করে। একটি ভালো শিরোনাম আপনার আর্টিকেলের সিটিআর বাড়ায় যা পরোক্ষভাবে র‍্যাঙ্কিংয়ে সাহায্য করে।

আর্টিকেলের গঠন এবং প্যারাগ্রাফ

পাঠকরা এখন আর বিশাল বড় প্যারাগ্রাফ পড়তে পছন্দ করেন না। তাই আপনার আর্টিকেলের গঠন হতে হবে সহজ এবং সাবলীল। প্রতিটি প্যারাগ্রাফ ৩ থেকে ৪ লাইনের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। আর্টিকেল শুরু করবেন একটি আকর্ষণীয় ভূমিকা বা ইন্ট্রোডাকশন দিয়ে। ভূমিকার মধ্যে আপনি এই আর্টিকেলে কী নিয়ে আলোচনা করবেন তার একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন। এরপর ধাপে ধাপে মূল বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এবং শেষে একটি উপসংহার বা কনক্লুশন দিয়ে আর্টিকেল শেষ করবেন। লেখার মাঝে পর্যাপ্ত হোয়াইট স্পেস বা ফাঁকা জায়গা রাখবেন যাতে পাঠকের চোখের আরাম হয়।

কপি কন্টেন্ট এবং প্লাগিয়ারিজম বর্জন করা

গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কপি-পেস্ট কন্টেন্ট। আপনি যদি অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে লেখা কপি করে নিজের ব্লগে পোস্ট করেন, তবে আপনি কখনোই এডসেন্স পাবেন না। এমনকি আপনি যদি অন্য ভাষার কন্টেন্ট গুগল ট্রান্সলেট করে হুবহু বসিয়ে দেন, তাহলেও গুগল সেটা ধরে ফেলবে। আপনাকে সম্পূর্ণ নিজের ভাষায় এবং নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে লিখতে হবে। যদি কোনো তথ্য অন্য জায়গা থেকে নিতেও হয়, তবে সেটা নিজের মতো করে গুছিয়ে লিখুন। ১০০% ইউনিক কন্টেন্ট হলো এডসেন্স পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। প্লাগিয়ারিজম চেকার টুল ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার লেখাটি মৌলিক কি না।

শব্দ সংখ্যা বা আর্টিকেলের দৈর্ঘ্য

অনেকে প্রশ্ন করেন, কত শব্দের আর্টিকেল লিখলে এডসেন্স পাওয়া যায়? গুগলের কোনো নির্দিষ্ট শব্দ সংখ্যার নিয়ম নেই, তবে অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, খুব ছোট বা ৩০০ শব্দের নিচের আর্টিকেলগুলোকে গুগল লো ভ্যালু কন্টেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে। দ্রুত এপ্রুভাল পাওয়ার জন্য প্রতিটি আর্টিকেল অন্তত ৮০০ থেকে ১০০০ শব্দের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। তবে অযথা কথা বাড়িয়ে শব্দ সংখ্যা বাড়াবেন না। তথ্যের গভীরতা এবং মানের দিকে নজর দিন। বিস্তারিত এবং ইন-ডেপথ আর্টিকেল গুগল খুব পছন্দ করে কারণ এতে পাঠকরা তাদের প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর পায়।

উচ্চ মানের ছবি এবং কপিরাইট সতর্কতা

একটি ছবি হাজার শব্দের সমান। আর্টিকেলের মাঝে বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে ছবি ব্যবহার করলে তা পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সাবধান, গুগল ইমেজ বা অন্য কারো ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি ছবি ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন না। এটি কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল এবং এর কারণে আপনার এডসেন্স বাতিল হতে পারে। ক্যানভা বা ফটোশপের মতো টুল ব্যবহার করে নিজের জন্য কাস্টম ছবি তৈরি করুন। অথবা পিক্সাবে বা আনস্প্ল্যাশ এর মতো রয়্যালটি-ফ্রি ইমেজ সাইট থেকে ছবি নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিটি ছবিতে অল্ট টেক্সট ব্যবহার করতে ভুলবেন না, কারণ এটি এসইও এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংকিং

আপনার আর্টিকেলের এসইও ভ্যালু বাড়ানোর জন্য লিংকিং করা খুব জরুরি। যখন আপনি একটি নতুন আর্টিকেল লিখবেন, তখন আপনার ওয়েবসাইটের পুরনো কোনো প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলের লিংক সেখানে যুক্ত করে দিন। একে বলা হয় ইন্টারনাল লিংকিং। এতে পাঠকরা আপনার সাইটে বেশি সময় কাটাবে এবং বাউন্স রেট কমে যাবে। পাশাপাশি, আপনি যদি কোনো তথ্যের সূত্র হিসেবে অন্য কোনো বিশ্বস্ত এবং ভালো মানের ওয়েবসাইটের লিংক দেন, তবে তাকে এক্সটারনাল লিংকিং বলে। এটি গুগলকে বোঝায় যে আপনার তথ্যগুলো সঠিক এবং আপনি ব্যবহারকারীদের ভ্যালু দিচ্ছেন। তবে স্প্যামি বা খারাপ সাইটের লিংক দেবেন না।

সঠিক ভাষা এবং ব্যাকরণ

ব্লগার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লেখার সময় ভাষার ব্যবহার হতে হবে মার্জিত এবং সহজবোধ্য। আপনি যে ভাষাতেই লিখুন না কেন, বাংলা বা ইংরেজি, বানান এবং ব্যাকরণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রচুর বানান ভুল থাকলে গুগল মনে করে আপনার সাইটের মান খারাপ। জটিল এবং কঠিন শব্দ ব্যবহার না করে কথ্য বা চলিত ভাষায় লিখুন যাতে সব শ্রেণীর পাঠক সহজে বুঝতে পারে। লেখার টোন বা ভঙ্গি হতে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সাহায্যকারী। আপনি যেন পাঠকের সাথে কথা বলছেন, এমনভাবে লিখুন।

গুগল এডসেন্স পলিসি এবং নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু

আর্টিকেল লেখার সময় গুগলের কন্টেন্ট পলিসি বা নীতিমালা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এমন কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে লিখলে গুগল কখনোই এডসেন্স দেয় না। যেমন অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট, জুয়া বা বেটিং, হ্যাকিং শেখানো, ড্রাগস বা মাদকদ্রব্য, সহিংসতা ছড়ায় এমন কন্টেন্ট, এবং অন্যকে অপমান করে এমন লেখা। এছাড়াও কোনো পেইড সফটওয়্যার বা মুভি বিনামূল্যে ডাউনলোড করার লিংক দেওয়া বা ক্র্যাক ভার্সন প্রমোট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরনের বিষয় এড়িয়ে চলুন এবং শুধুমাত্র এডসেন্স ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি টপিক নিয়ে কাজ করুন।

গুরুত্বপূর্ণ পেজ বা পৃষ্ঠা তৈরি করা

শুধুমাত্র ভালো আর্টিকেল লিখলেই হবে না, আপনার ব্লগার ওয়েবসাইটে কিছু নির্দিষ্ট পেজ থাকা বাধ্যতামূলক। এগুলো না থাকলে গুগল আপনার আবেদন রিজেক্ট করে দেবে। এই পেজগুলো হলো ১. এবাউট আস, যেখানে আপনার এবং আপনার সাইটের সম্পর্কে বলা থাকবে। ২. কন্টাক্ট আস, যেখানে আপনার সাথে যোগাযোগের ইমেইল বা ফর্ম থাকবে। ৩. প্রাইভেসি পলিসি, যেখানে ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীষতার ব্যাপারে বলা থাকবে। ৪. ডিসক্লেইমার এবং ৫. টার্মস এন্ড কন্ডিশনস। এই পেজগুলো মেনুবারে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে।

ধারাবাহিকতা বা কনসিস্টেন্সি বজায় রাখা

অনেকে শুরুতে খুব উৎসাহ নিয়ে ৫-১০টি আর্টিকেল লেখেন, তারপর এক মাস আর কোনো খবর থাকে না। আবার হঠাৎ একদিন অনেকগুলো পোস্ট করেন। এই অনিয়মিত আচরণ এডসেন্স পাওয়ার পথে বড় বাধা। গুগল বট নিয়মিত আপনার সাইট ক্রল করে। তাই আপনাকে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে পোস্ট করতে হবে। প্রতিদিন না পারলে সপ্তাহে অন্তত ৩-৪টি মানসম্মত আর্টিকেল পোস্ট করার চেষ্টা করুন। যখন আপনার সাইটে ২৫ থেকে ৩০টি হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল জমা হবে, তখন এডসেন্স এর জন্য আবেদন করুন। ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতা ব্লগের সাফল্যের মূলমন্ত্র।

ইউজার ইন্টারফেস এবং থিম কাস্টমাইজেশন

আপনার কন্টেন্ট যতই ভালো হোক, যদি ওয়েবসাইটের ডিজাইন বা থিম ভালো না হয়, তবে পাঠকরা বিরক্ত হবে। ব্লগার এর জন্য একটি রেস্পন্সিভ এবং ফাস্ট লোডিং থিম ব্যবহার করুন। ফন্ট সাইজ যেন পড়ার মতো হয় এবং কালার কম্বিনেশন যেন চোখের জন্য আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিম ব্যবহার করা খুব জরুরি কারণ এখন বেশিরভাগ ভিজিটর মোবাইল থেকেই আসে। নেভিগেশন মেনু সহজ রাখুন যাতে যে কেউ সহজেই এক পেজ থেকে অন্য পেজে যেতে পারে। অযথা গ্যাজেট বা উইজেট দিয়ে সাইট ভারী করবেন না।

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও

আর্টিকেল লেখার সময় অন-পেজ এসইও এর নিয়মগুলো মেনে চলুন। মেইন কিওয়ার্ডটি টাইটেল, প্রথম প্যারাগ্রাফ, সাব-হেডিং এবং কনক্লুশনে প্রাকৃতিকভাবে ব্যবহার করুন। তবে জোর করে বারবার কিওয়ার্ড বসাবেন না, একে কিওয়ার্ড স্টাফিং বলে যা গুগলের চোখে অপরাধ। পার্মালিংক বা ইউআরএল টি ছোট এবং কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ রাখুন। মেটা ডেসক্রিপশন লিখুন যা সার্চ রেজাল্টে দেখাবে। এই ছোট ছোট এসইও টেকনিকগুলো আপনার আর্টিকেলকে গুগলের প্রথম পেজে আনতে সাহায্য করে এবং অর্গানিক ট্রাফিক বাড়ায়, যা এডসেন্স পাওয়ার জন্য খুব পজিটিভ সিগন্যাল।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ব্লগার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স মনিটাইজেশন পাওয়া কোনো রকেট সায়েন্স নয়। এটি একটি ধৈর্যের পরীক্ষা। উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে, নিজের ভাষায়, এবং মানুষের উপকারে আসে এমন ইউনিক আর্টিকেল লিখলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। কপি-পেস্ট থেকে দূরে থাকুন, নিয়মিত লিখুন এবং গুগলের পলিসি মেনে চলুন। মনে রাখবেন, গুগল চায় ভালো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের পুরস্কৃত করতে। তাই শর্টকাট না খুঁজে মানের দিকে ফোকাস করুন। আপনার ব্লগিং যাত্রা সফল হোক এবং আপনি দ্রুত এডসেন্স এপ্রুভাল পান, এই কামনা করি।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: ব্লগার ওয়েবসাইটে এডসেন্স পেতে হলে কমপক্ষে কয়টি আর্টিকেল থাকতে হবে?


উত্তর: গুগলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা নেই। তবে অভিজ্ঞ ব্লগারদের মতে, এডসেন্স এর জন্য আবেদন করার আগে আপনার সাইটে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি হাই-কোয়ালিটি এবং ইউনিক আর্টিকেল থাকা উচিত। এতে গুগলের কাছে আপনার সাইটের পর্যাপ্ত তথ্য থাকে এবং এপ্রুভাল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।


প্রশ্ন ২: আমার ব্লগের বয়স কতদিন হলে আমি এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবো?


উত্তর: বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো এশীয় দেশগুলোতে অনেক সময় ডোমেইনের বয়স ৬ মাস হওয়ার নিয়ম থাকে। তবে আপনার কন্টেন্ট যদি অত্যন্ত উন্নত মানের হয়, তবে ১-২ মাস বয়সের সাইটেও এডসেন্স পাওয়া সম্ভব। তবে নিরাপদ থাকার জন্য সাইটের বয়স অন্তত ১-২ মাস এবং নিয়মিত কন্টেন্ট থাকার পর আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ।


প্রশ্ন ৩: আমি কি এআই বা চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা আর্টিকেল পোস্ট করে এডসেন্স পাবো?


উত্তর: গুগল এখন এআই কন্টেন্ট শনাক্ত করতে পারে। যদি আপনি এআই দিয়ে লিখে কোনো এডিট ছাড়া হুবহু পোস্ট করেন, তবে তা লো ভ্যালু কন্টেন্ট বা স্প্যাম হিসেবে গণ্য হতে পারে। এআই দিয়ে আইডিয়া নিতে পারেন, কিন্তু লেখাটি অবশ্যই আপনার নিজের ভাষায় এবং হিউম্যান টাচ দিয়ে লিখতে হবে। সম্পূর্ণ এআই নির্ভর কন্টেন্ট দিয়ে এডসেন্স পাওয়া খুব কঠিন।


প্রশ্ন ৪: এডসেন্স পেতে হলে আমার সাইটে প্রতিদিন কত ভিজিটর বা ট্রাফিক থাকতে হবে?


উত্তর: এডসেন্স এপ্রুভালের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ট্রাফিক রিকোয়ারমেন্ট নেই। আপনার সাইটে যদি অর্গানিক ট্রাফিক আসে, এমনকি সেটা দিনে ৫০-১০০ জন হলেও আপনি এপ্রুভাল পেতে পারেন। তবে শূন্য ট্রাফিক বা শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া ট্রাফিক নিয়ে আবেদন করলে রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


প্রশ্ন ৫: আমি কি কপিরাইট ফ্রি ইমেজ ব্যবহার করতে পারবো নাকি নিজের ছবি তুলতে হবে?


উত্তর: আপনি পিক্সাবে, পেক্সেলস বা আনস্প্ল্যাশ এর মতো সাইট থেকে কপিরাইট ফ্রি ছবি ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেই ছবিগুলোকে একটু এডিট করে, টেক্সট বা লোগো বসিয়ে ইউনিক করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। সরাসরি গুগল থেকে ডাউনলোড করা ছবি ব্যবহার করবেন না। নিজের তোলা বা তৈরি করা ছবি হলে সবচেয়ে ভালো।


প্রশ্ন ৬: ফ্রি ব্লগার সাবডোমেইন (.blogspot.com) দিয়ে কি এডসেন্স পাওয়া যায়?


উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই পাওয়া যায়। হাজার হাজার মানুষ ফ্রি সাবডোমেইন ব্যবহার করে এডসেন্স থেকে আয় করছেন। তবে একটি কাস্টম ডোমেইন কিনে নিলে আপনার সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে এবং এসইও এর ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যায়, যা দ্রুত এপ্রুভালে সাহায্য করে।


প্রশ্ন ৭: আর্টিকেল লেখার সময় কোন ভাষা ব্যবহার করলে দ্রুত এপ্রুভাল পাওয়া যায়?


উত্তর: গুগল এডসেন্স বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষাই সাপোর্ট করে। আপনি যে ভাষায় বেশি দক্ষ, সেই ভাষাতেই লিখুন। তবে বাংলা এবং ইংরেজি মিশিয়ে জগাখিচুড়ি ভাষায় লিখবেন না। বাংলা ভাষায় লিখলে সম্পূর্ণ বাংলায় এবং শুদ্ধ বানানে লিখুন। ভাষার মানের ওপর ভিত্তি করেই গুগল আপনার সাইট বিচার করবে।


প্রশ্ন ৮: আমার আবেদন রিজেক্ট হলে বা প্রত্যাখ্যান করা হলে আমি কি আবার আবেদন করতে পারবো?


উত্তর: হ্যাঁ, আপনি যতবার খুশি আবেদন করতে পারেন। তবে রিজেক্ট হওয়ার পর সাথে সাথে আবার আবেদন করবেন না। গুগল আপনাকে ইমেইলে জানাবে কেন রিজেক্ট করা হয়েছে। সেই সমস্যাগুলো সমাধান করুন, আরও কিছু নতুন এবং ভালো মানের আর্টিকেল লিখুন, এবং তারপর ২-৩ সপ্তাহ পর পুনরায় আবেদন করুন।


প্রশ্ন ৯: আমি কি নিউজ বা খবরের ওয়েবসাইট বানিয়ে দ্রুত এডসেন্স পেতে পারি?


উত্তর: নিউজ ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি এবং অনেক সময় নিউজগুলো কপি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনি ইউনিক নিউজ বা বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন, তবে পাবেন। কিন্তু সাধারণ ব্রেকিং নিউজ যা সব সাইটে একই রকম, তা দিয়ে নতুন অবস্থায় এডসেন্স পাওয়া একটু কঠিন হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো টপিক বা টিউটোরিয়াল ভিত্তিক সাইট নতুনদের জন্য বেশি নিরাপদ।


প্রশ্ন ১০: আর্টিকেলের মধ্যে কতগুলো ছবি ব্যবহার করা উচিত?


উত্তর: এটি নির্ভর করে আপনার আর্টিকেলের প্রয়োজনের ওপর। সাধারণত একটি ১০০০ শব্দের আর্টিকেলে ২ থেকে ৩টি ছবি ব্যবহার করা ভালো। খুব বেশি ছবি ব্যবহার করলে পেজ লোডিং স্পিড কমে যেতে পারে, যা এসইও এর জন্য খারাপ। প্রথম প্যারাগ্রাফের পরে একটি ফিচার ইমেজ এবং মাঝে প্রয়োজন অনুযায়ী ১-২টি সাপোর্টিং ইমেজ ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

মন্তব্যসমূহ

Popular Posts

২০২৬ সালে ঘরে বসে অনলাইন আয়ের সেরা ১০টি অ্যাপ ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

২০২৬ সালে ঘরে বসে অনলাইন আয়ের সেরা ১০টি অ্যাপ নিয়ে জানার আগ্রহ এখন সবার তুঙ্গে। আসলে ইন্টারনেটের এই যুগে হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি এখন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় বরং উপার্জনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সত্যি বলতে যারা সঠিক গাইডলাইন জানেন তারা খুব সহজেই বাড়তি কিছু টাকা আয় করতে পারছেন। মূলত এই বছরটিতে আয়ের ধরণ অনেক বদলে গেছে এবং সহজ হয়ে উঠেছে। সময়ের বিবর্তন ও আয়ের ধারা ২০২৫ সালে আমরা দেখেছিলাম মানুষ কেবল এআই টুলস ব্যবহার করতে শিখছে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি একদম ভিন্ন। এখন অ্যাপগুলো অনেক বেশি স্মার্ট এবং পেমেন্ট সিস্টেম আরও সহজ। ২০২৭ সালের দিকে আমরা হয়তো দেখব মেটাভার্স বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভিত্তিক আয়ের নতুন এক পৃথিবী যেখানে শরীর না নাড়িয়েই ভার্চুয়াল কাজ করে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করা যাবে। বর্তমানে যারা এই অ্যাপগুলো শিখবেন তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবেন। একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা বা কেস স্টাডি মজার ব্যাপার হলো আমার এক পরিচিত ছোট ভাই সজীব গত বছর পড়ালেখার পাশাপাশি একটি মাইক্রো টাস্ক অ্যাপে কাজ শুরু করে। সে প্রতিদিন মাত্র ২ ঘণ্টা সময় দিত। শুরুতে তার আয় খুব কম থাকলেও মাস শেষে সে প্রায় ...

ইউটিউব মনিটাইজেশন ২০২৬: খুব দ্রুত চ্যানেল থেকে আয় করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

আসলে ইউটিউব এখন আর আগের মতো শুধু ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নেই। ২০২৬ সালে এসে এটি একটি বিশাল আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। সত্যি বলতে, আপনি যদি সঠিক গাইডলাইন মেনে কাজ শুরু করেন, তবে ইউটিউব থেকে ক্যারিয়ার গড়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। একটা বিষয় খেয়াল করবেন, ইউটিউব এখন শুধু ভিউ বা সাবস্ক্রাইবারের ওপর গুরুত্ব দেয় না, তারা দেখে আপনার কন্টেন্ট দর্শকদের কতটা উপকারে আসছে। চলুন দেখে নিই, ২০২৬ সালে ইউটিউব মনিটাইজেশন পাওয়ার এবং দ্রুত সফল হওয়ার আসল উপায়গুলো কী কী। ইউটিউব মনিটাইজেশনের নতুন নিয়ম ও শর্তাবলী ২০২৬ সালে ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন পলিসিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। এখন আপনি চাইলে খুব সহজেই চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারেন। জাস্ট নিচের শর্তগুলো পূরণ করলেই হবে: ১. ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং গত এক বছরে ৪০০০ ঘণ্টা ওয়াচ টাইম । ২. অথবা, আপনি যদি শর্টস ভিডিও বানান, তবে গত ৯০ দিনে ১০ মিলিয়ন শর্টস ভিউ । ৩. ফ্যান ফান্ডিং ফিচার (যেমন- সুপার চ্যাট , থ্যাঙ্কস) চালু করতে আপনার মাত্র ৫০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৩টি ভ্যালিড পাবলিক আপলোড থাকলেই চলবে। পাশাপাশি আপনার চ্যানেলে কোনো অ্যাক্টিভ কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক থাকা যা...